সারাদেশ

দোয়া ও মিলাদের মঞ্চে নৃত্যানুষ্ঠান, ভিডিও ভাইরাল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

দোয়া ও মিলাদের মঞ্চে নৃত্যানুষ্ঠান, ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাকেরগঞ্জে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের জন্য আয়োজিত একই মঞ্চে নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার সুন্দরকাঠী মোল্লা বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী দোয়া, মিলাদ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৩ ও ৪ অক্টোবর এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষ হওয়ার পর একই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

এ সময় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের জন্য মঞ্চে টাঙানো কোরআন শরিফের ছবিসংবলিত ব্যানারও সেখানে দৃশ্যমান ছিল। পরে ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা শুরু হয়। অনেকে একই মঞ্চে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন এবং কোরআন শরিফের ছবিসংবলিত ব্যানার থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ও দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে দোয়া, মিলাদ ও দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বিএনপির কোনো পদে আছেন কি না জানতে চাইলে শাহিন মোল্লা বলেন, তিনি বিএনপির কোনো পদে নেই। এমনকি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপি বা উপজেলা বিএনপির কারও কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

দুধল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মকবুল খান বলেন, ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও নন এবং দলের কোনো পদেও তিনি নেই। তিনি কখনো বিএনপির কোনো পদে ছিলেন না। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের জন্য থানার কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।