সারাদেশ

টঙ্গীতে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামে


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

টঙ্গীতে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, শোকের ছায়া গ্রামে
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন লাল চান মিয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৫০) এবং তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা আক্তার। মর্মান্তিক এ ঘটনায় তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাস করতেন গার্মেন্টসকর্মী লাল চান মিয়া ও তাঁর পরিবার। তাঁরা টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকার মুদাফা মাস্টারপাড়ায় ফখরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন লাল চান মিয়া।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে পরিবারের সদস্যরা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তাঁদের বাসার রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় লাল চান মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা খাতুন ও মেয়ে তানিশা আক্তার গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণ ও আগুনে তিনজনের শরীরের প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। একই সঙ্গে আগুনের তাপে তাঁদের শ্বাসনালিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও একে একে তিনজনেরই মৃত্যু হয়।

একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী মেয়ে তানিশাকে নিয়ে পরিবারের স্বপ্নও এই দুর্ঘটনায় থেমে গেল। জীবিকার প্রয়োজনে নিজ এলাকা ছেড়ে টঙ্গীতে বসবাস করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হওয়ায় তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামেও গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট এ দুর্ঘটনা আবারও বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে আগুন জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া জরুরি। সামান্য অসতর্কতা কিংবা ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস সংযোগ যে একটি পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, টঙ্গীর এ ঘটনা তারই মর্মান্তিক উদাহরণ।