সারাদেশ

বিরামপুরে কুকুরে কামড়ানো গাভী জবাই, মাংস বিক্রির চেষ্টা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৪ এএম

বিরামপুরে কুকুরে কামড়ানো গাভী জবাই, মাংস বিক্রির চেষ্টা
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গত রবিবার দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের পান্নাথপুর গ্রামে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ একটি ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান মণ্ডলের ছেলে মাসুদ রানারের একটি গাভী কয়েকদিন আগে কুকুরে কামড়ের শিকার হয়। এরপর থেকে গরুটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। গরুটি নিজের মাথা দেওয়ালে আঘাত করা, চোখ উল্টে যাওয়া, খাবার না খাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ করে।

অবশেষে, গরুটি মৃত্যুর মুখে পতিত হলে পাশের উপজেলার কয়েকজন কসাই কোনো পশু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গরুটি বাড়িতেই জবাই করেন। জবাইয়ের সময় গরুর পেট থেকে একটি ৮ মাসের বাছুর বের হয়ে আসে। পরে গরুর মাংস বস্তাবন্দি করে ফুলবাড়ী বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে ভ্যানটি থামিয়ে দেয় এবং ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পায়।

বিরামপুর থানা পুলিশের এসআই বকুল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মাংস জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলে। স্থানীয়দের দাবি, গরুটি আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। কুকুরে কামড়ানো এবং গর্ভবতী রোগাক্রান্ত গরুর মাংস মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবুও মাংস বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী ও আইনবিরোধী।

ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর অভিযুক্তরা এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তি নিজেকে জেলার নামকরা পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তার নাম ও পরিচয় সঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংবাদিকতার ভুয়া কার্ড দেখিয়ে প্রভাব খাটানো, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে এলাকার মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, কুকুরে কামড়ানো বা রোগাক্রান্ত গরু জবাই করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি Food Safety Act, Animal Slaughter Act এবং Penal Code অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরকম মাংস খেলে রেবিসসহ প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অনৈতিক ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা এবং কসাইদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তারা বারবার ছত্রছায়ায় অপকর্ম চালিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।