সারাদেশ

২০০ কোটি টাকার কয়েনের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিল ২ কোটি, গ্রেপ্তার ৪


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

২০০ কোটি টাকার কয়েনের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিল ২ কোটি, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মূল্যবান কয়েন ও কথিত সীমানা পিলার দেখিয়ে বিপুল মুনাফার প্রলোভনে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এস এম ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), মো. ইকরাম মিয়া (২৮), তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান (৬১) এবং মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)।

সংবাদ সম্মেলনে নোবেল চাকমা জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে চাতলাপুর চা-বাগানে থাকা ব্রিটিশ আমলের কথিত মূল্যবান ধাতব বস্তু কেনাবেচায় বিপুল লাভের প্রলোভন দেখায় চক্রটি। পরে এক কথিত বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বস্তুটি পরীক্ষা করিয়ে সেটিকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে দাবি করা হয়। এতে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে প্রতারকরা।

একপর্যায়ে কথিত বস্তুটি কেনার জন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ দুই কোটি টাকা নেয় চক্রটি। পরে বাক্স খুলে দেখা যায়, কথিত মূল্যবান ধাতব বস্তুর পরিবর্তে ভেতরে রাখা হয়েছে একটি সাপ।

পুলিশ জানায়, বাক্স খোলার পর প্রতারকরা দাবি করে, অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের কথিত বস্তুটি জিনের মাধ্যমে সাপে রূপান্তরিত হয়েছে। ২১ দিন পর সেটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশ্বস্ত করা হয় ভুক্তভোগীদের।

এভাবে নানা কৌশলে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ইলিয়াছুর রহমান ও ইকরাম মিয়াকে শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে তাহের-উল-ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান এবং ইব্রাহিম বেপারীকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে কথিত ২০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি প্রাচীন শক্তিশালী কয়েন, একটি নোহা গাড়ি, আটটি মুঠোফোন, বিভিন্ন নামে তৈরি ৫০০টি পরিচয়পত্র, ৯৪ পাতার ভুয়া ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র, তিনটি চেকবই, একটি কয়েনের খালি অ্যালবাম, একটি ডায়েরি এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত ১০টি মুঠোফোনের সিম জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি জাল স্ট্যাম্প এবং ‘অ্যান্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর নামে তৈরি একটি ভুয়া সনদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, চক্রটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভনে পড়ে সন্দেহজনক কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়ানো উচিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য উপস্থিত ছিলেন।