সোশ্যাল মিডিয়া

বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর, ফের আলোচনায় মিল্টন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর, ফের আলোচনায় মিল্টন
ছবি: সংগৃহীত

দুস্থ ও অসহায় মানুষকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া মিল্টন সমাদ্দার আবারও আলোচনায় এসেছেন। এবার তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এক কনটেন্ট নির্মাতাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী নাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদের দাবি, এক বৃদ্ধ নারীকে চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে তিনি কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেন। মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করে ওই বৃদ্ধাকে ঢাকায় এনে মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে রাখার উদ্যোগ নেন।

তিনি জানান, শুরুতে ওই বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মাসে ১৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তারা ওই অর্থ দিতে রাজি হলেও পরে প্রতিষ্ঠানটি বৃদ্ধাকে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মিল্টন সমাদ্দার তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আসতে বলেন।

নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি মিল্টন সমাদ্দারকে বিষয়টি জানান। পরে বুধবার রাত ২টা ৩৩ মিনিটে তারা ওই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান।

নাহিদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর শুরুতেই তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কারণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গায়ে হাত তোলেন এবং চোখে আঘাত করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া গেঞ্জি ধরে চড় মারা হয় এবং এতে বুকে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তার বুকে আঘাতের চিহ্নের ছবিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, তাকে ছাড়াতে এগিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী দেবাশীষ তার গলা চেপে ধরেন। এতে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা ইলিয়াস নামের আরেক ব্যক্তিকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নাহিদের ভাষ্য, তাদের মারধরের সময় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে ২০ থেকে ২৫ জনের সামনে তারা মাত্র তিনজন ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটি নির্জন এলাকায় হওয়ায় বের হওয়ারও সহজ কোনো পথ ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন নাহিদ। ওই স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

নাহিদ জানান, সেখানে যাওয়ার পথ ও পরিবেশ দেখে আশঙ্কা হওয়ায় তিনি কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির কাছে সরাসরি অবস্থান পাঠিয়ে রাখেন। পাশাপাশি মোবাইলে অডিও ধারণ চালু করে ঘটনার রেকর্ডও সংরক্ষণ করেন।

অভিযোগের পর কোনোভাবে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান নাহিদ। সেখানে চোখের পরীক্ষা ও এক্স-রে করা হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, বৃদ্ধ নারীকে ওই প্রতিষ্ঠানেই রেখে আসা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারের পরিচালিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া দুটি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একটি নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য নম্বরে কয়েকবার ফোন করা হলেও একবার কল কেটে দেওয়া হয় এবং পরে আর সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এর আগে ২০২৪ সালে মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন মিল্টন সমাদ্দার। পরে তার বিরুদ্ধে মানবিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া সাভারে জমি দখল, আর্থিক হিসাবে অস্বচ্ছতা, আশ্রিতদের তথ্যের গরমিল, বরিশালে একটি গির্জা দখলের চেষ্টা, বৃদ্ধদের চিকিৎসা না দেওয়া এবং মৃত্যু সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এসব অভিযোগের পর তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাজধানীর মিরপুর থানায় করা মানবপাচার আইনের মামলায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তিনি জামিন পান।