সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ | ৩ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ ঐক্যের জানান দিতে চায় বিএনপি

অবিলম্বে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনসহ ১০ দফা আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল করবে বিএনপি।

একইদিনে যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন ঢাকা ও রংপুরে গণমিছিল করবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের জমায়েত করে গণমিছিল সফলে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন স্পট থেকে বের করা হবে গণমিছিল। গণমিছিল কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই যৌথসভা, সমন্বয় সভা ও প্রস্তুতি সভা করছে। একইভাবে দলের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা করেছে।

ঢাকায় গণমিছিলে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে লিয়াজোঁ কমিটি। নেতারা আশা করছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়েছে। দেশের মানুষ এ আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে। এ সরকারকে বিদায় করতে মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ। এখানে বিএনপি একা নয়, সাধারণ মানুষও এই সরকারের অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাই সবাই এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। চলমান আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দেবে। সেই কাজটাই এখন চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা মোকাবিলা করে সরকারবিরোধী ‘বৃহৎ আন্দোলন’ গড়ে তোলার পথে হাঁটছে বিএনপি। সব দলকে সাথে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে চাপে রেখে প্রধানত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে চায় দলটি।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ঢাকায় গণমিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হবে। আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল থেকে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাবে দেশের মানুষ।

বিএনপির গণমিছিলের রুট প্রকাশ

আগামী ৩০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ঢাকায় অনুষ্ঠেয় গণমিছিলের রুট প্রকাশ করেছে বিএনপি। গণমিছিল শুরু হবে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে। এরপর কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার হয়ে বাংলামোটর গিয়ে শেষ হবে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গণমিছিল হবে। এ বিষয়ে অবহিত করতে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে যাবে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সরকার পতনে ১০ দফা ও ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওইদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকার কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে রংপুরেও তা স্থগিত করে ঢাকার সঙ্গে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোও মাঠে নামার ঘোষণা দেয়। এদিকে ৩০ ডিসেম্বরের পর কোনো ধরনের কর্মসূচি দেবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে নেয়নি বিএনপি।

এদিকে ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশে এককভাবে বড় শোডাউনের পর এবার যুগপৎভাবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই কর্মসূচি সফল করার ঘোষণাও দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। ১০ দফা দাবিতে ওই দিন ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বর ‘কালো দিবস’ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে পালন করে আসছে বিএনপি। এবার ওই দিন গণমিছিল থাকায়, এ দিবসটি আলাদা গুরুত্ব বহন করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

নিজ নিজ দলের ব্যানারে এক এবং অভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নামবেন বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে ঐকমত্য প্রকাশ করা দলগুলো। অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিলুপ্ত ২০ দলীয় জোটের অন্যতম বড় দল জামায়াতে ইসলামীও। সব দল মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে গণমিছিলকে কেন্দ্র করে বড় শোডাউনেরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এ দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়া সারা দেশে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল। কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন জেলায় বাধার মুখে পড়ে দলটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষও ঘটে। পঞ্চগড়ে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় অর্ধশতাধিক আহত হন। এ ছাড়া, বিভিন্ন জেলায় হামলায় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

১২ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমরা যুগপৎভাবে ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল করব। ২২ ডিসেম্বর যেদিন ১২ দলীয় জোটের ঘোষণা হয় সেদিনই আমরা জানিয়েছি ৩০ ডিসেম্বর বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় আমরা অবস্থান নেব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ২৪ ডিসেম্বর পুলিশ সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দিয়েছে। পঞ্চগড়ে বিএনপির আবদুর রশিদকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবুও কিন্তু গণমিছিল ঠেকাতে পারেনি। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায়ও গণমিছিল সফল হবে। সফলতা দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে জনগণ বিদায় করবে। বিএনপির আন্দোলনে জনগণ সম্পৃক্ত হয়ে রাজপথে নেমেছে। সরকার এতে ভীত হয়ে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এতে বিএনপি একটুও পিছু হটবে না।

বিএনপি নয়াপল্টনে, ১২ দলীয় জোট বিজয়নগরে, সাতদলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি-এলডিপি পূর্ব পান্থপথ থেকে গণমিছিল বের করবে। এ ছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা দুটি স্পটে মিছিল করবে।

এদিকে বিলুপ্ত ২০ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ হয়েছে ১২ দলীয় জোট। তবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির নেতৃত্বে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্যজোট’ নামে আরও একটি জোটের আগামীকাল আত্মপ্রকাশ করার কথা রয়েছে। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দল নিয়ে হবে এ জোট। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে। আমরা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকব। শুক্রবার রাজধানীর একটি স্পট থেকে গণমিছিল বের করব। স্পটের নাম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সমন্বয় সাত সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। কমিটির সদস্যরা হলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটি

গণতন্ত্র মঞ্চ সাত সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটির গঠন করেছে বলে জানান জোটের অন্যতম শরিক ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। কমিটির সদস্যরা হলেন-জেএসডির সভাপতি আসম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।

এলডিপির লিয়াজোঁ কমিটি

লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি)। এতে দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদকে আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলমকে সদস্য সচিব করা হয়। সেই সঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল ও অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদকে করা হয়েছে সদস্য। জামায়াত ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতা ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে নামতে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ঢাকাপ্রকাশ কে জানান, বিএনপির শান্তিপূর্ণ গণমিছিলে গুলি চালানো হয়েছে। তেল-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে বিএনপির কর্মসূচিতে গুলি চালিয়ে এর আগে ১৫ জন নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

এমএএইচ/এমএমএ/

Header Ad

বিদেশের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে আছে : মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকার একটি নতজানু সরকার, বিদেশের ওপর নির্ভর করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ড সেন্টমার্টিনে গোলাগুলি হচ্ছে। মিয়ানমারের যুদ্ধজাহাজও সেখানে দেখা যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত আসছে। আর তারা বলছে (সরকার)- আমরা দেখছি।’

রোববার দুপুর ২টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ীতে নিজ বাসভবনে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার আমাদের আন্তর্জাতিক যে সমুদ্র পথ সে পথে আমরা যেতে পারছি না। এটা বাংলাদেশের জন্য হুমকি।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো- এই অনির্বাচিত সরকার, দখলদারিত্বের সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্টেটমেন্ট দেয়নি। কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আলোচনা করবে বলছে; কিন্তু কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত আমরা শুনিনি। তাহলে এ সরকারের প্রতি মানুষ কী করে আস্থা রাখবে। এটি (আওয়ামী লীগ) একটি নতজানু সরকার। বিদেশের ওপর নির্ভর করে এই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা-কর্মকারী মনে করছেন যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে, লুটপাট করে, বিএনপিকে নির্যাতন করে টিকে থাকতে পারবেন; তারা তা পারবেন না। আল্টিমেটলি এভাবে টিকে থাকা যায় না। তার প্রমাণ বেনজীর ও আজিজ। আওয়ামী লীগ সরকারই তাদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে।

‘এখন সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ফিরিস্তি পত্রিকায় বের হয়েছে। একে একে সবার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তাদেরকে চুরির সুযোগ দিচ্ছে। তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকার ফেল। তাদের উচিত পদত্যাগ করা।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন একটা তামাশা। এটা করতে হয় তাই আওয়ামী লীগ করছে। নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে তারা জেলে পাঠিয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

‘ভারতেও নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তার কারন হলো যারা শাসন ক্ষমতায় থাকে তারা গণএন্ত্র বিশ্বাস করে না।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাহস করে যদি আপনারা না দাঁড়ান তাহলে সংবাদ মাধ্যমে টিকে থাকতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ সরকারই ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল।

‘সাংবাদিকরা তখন ভিক্ষা করতেন, ফল বিক্রি করতেন। এখন অনেকটিভি চ্যানেল হয়েছে। কিন্তু কোনো সাংবাদিক তার মালিকের হুকুম ছাড়া কিছুই করতে পারেন না।’

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমীন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, আবু নুর চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতা।

ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও আছে। এর পাশাপাশি দু–এক বিভাগে মেঘলা আকাশ এবং সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তথ্য মতে, দেশজুড়ে টানা বা ভারী বৃষ্টি হবে নেই। দেশের বড় অংশজুড়ে ওই দিন ভ্যাপসা গরমের ভাবটা থাকতে পারে। এর কারণ হলো, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। তাই তাপমাত্রা হয়তো খুব বেশি না থাকলেও অস্বস্তি চরমে উঠতে পারে। আজ রোববারও দেশের একটি বড় অংশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তি, আছে অস্বস্তিও।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ আজ বলেন, ঈদের দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমত, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ওই দিন বৃষ্টি হতে পারে। এই তিন বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। এসব এলাকার তাপমাত্রা সহনীয় থাকতে পারে। ঈদের দিন চট্টগ্রাম বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী বিভাগে ঈদের দিন তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ। তিনি বলছিলেন, এই তিন বিভাগের কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খুলনা ও বরিশালে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকতে পারে। কোথাও কোথাও তা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। এ বিভাগের কিছু জায়গায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

খুলনা বিভাগে টানা কয়েক দিন মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল খুলনায়, ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বিভাগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০টি স্টেশনের মধ্যে কুমারখালী ও নড়াইল বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে ধরা হয়।

ঈদের দিন তাহলে ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে—এ প্রশ্নে বজলুর রশীদ বলেন, ঢাকার আকাশ ওই দিন মেঘলা থাকতে পারে। আর বিকেলের দিকে কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ঢাকায় ঈদের দিন বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাবে না বলেই মনে হয়।

যদিও এখন তাপমাত্রা এপ্রিলের সেই তীব্র বা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ নেই। কিন্তু এর মধ্যেও গরমের অনুভূতি হচ্ছে প্রচণ্ড। ঘাম ঝরছে খুব। এর কারণ হিসেবে বজলুর রশীদ বলেন, ‘এখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ খুব বেশি। গতকাল ঢাকায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ ভাগ। ঈদের দিনেও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। তাই গরমের অনুভব হবে বেশি।

আজ সকাল ছয়টায় ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ ভাগ।

আকাশ মেঘলা থাকলে একটা বড় বিপত্তি দেখা দেয়। সেটা হলো, ভূপৃষ্ঠে তৈরি হওয়া তাপ আটকে থাকে। এতে গরমের অনুভূতি বেশি হয়। ঈদের দিন অন্তত ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলে গরমে অস্বস্তি বেশি হতে পারে বলে জানান বজলুর রশীদ।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল (১৭ জুন) দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা।

রোবাবার (১৬ জুন) তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম, এক বছর পর আবারও আমাদের জীবনে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি আপনাদেরকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাই।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আসুন ঈদুল আজহার শিক্ষা গ্রহণ করে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বীবিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি।

বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আপনার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। ঈদ মোবারক।

সর্বশেষ সংবাদ

বিদেশের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে আছে : মির্জা ফখরুল
ঈদের দিন তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে গাইবান্ধায় ঈদুল আজহা উদযাপন
ঘোড়াঘাটে ভূমি দখলকারীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি
ঈদের দিন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর সকল দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে
ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা
দায়িত্বের এ জীবন কঠিন হলেও সুন্দর : বাবা দিবসে পরীমণি
কুড়িগ্রামে আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব
জাতীয় ঈদগাহে ৫ স্তরের নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার
জেনে নিন ঢাকায় কখন কোথায় ঈদের জামাত
ঈদের দিনেও রেহাই নেই গাজার বাসিন্দাদের
চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে ফের রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় অর্ধলাখ যানবাহন পারাপার
শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ
অজিদের কল্যাণে সুপার এইট নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড
সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছে আওয়ামী লীগ : খাদ্যমন্ত্রী
সারাদিনের ভোগান্তির পর উত্তরের ঈদযাত্রায় ফিরেছে স্বস্তি
আর্থিক সংকটে কাঙ্খিত বেচা-কেনা হয়নি চুয়াডাঙ্গার পশুহাট গুলোতে
আনারকন্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিএমপি কমিশনার