খেলা
তানভীর ঝড়ে বিধ্বস্ত লঙ্কানরা, সিরিজে সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচ হারার পর রীতিমতো চাপে ছিল বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি তাই ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সেই লড়াইয়ে ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠলেন টাইগাররা। পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে ঘূর্ণির ছোবলে শ্রীলঙ্কাকে কাবু করলেন তানভীর ইসলাম। ফলাফল, ১৬ রানের দারুণ এক জয়—যা সিরিজে ফিরিয়ে এনেছে সমতা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ফিরলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে দ্বিতীয় উইকেটে শান্ত ও ইমন গড়েন ৬৩ রানের জুটি। শান্ত ৩০ রান করে ফিরে গেলেও ইমন ছিলেন একপাশ আগলে। ৬৯ বলে ৬৭ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলে তিনি দলকে সামনে এগিয়ে নেন।
তাদের ইনিংস আরও সমৃদ্ধ করে তাওহীদ হৃদয়ের ৫১ রান। মিরাজ এ দিনও ব্যর্থ, করেন মাত্র ৯ রান। এরপর জাকের আলী ২৪ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন তানজিম হাসান সাকিব—২১ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে দলকে পৌঁছে দেন ২৪৮ রানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে কার্যকর ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো, নেন ৪ উইকেট।
লঙ্কানদের ইনিংসের শুরুটা ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ৬ রানে নিশাঙ্কাকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান তানজিম সাকিব। এরপর থেকেই শুরু হয় তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি তাণ্ডব। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক উইকেট তুলে নিতে থাকেন তিনি। কুশাল মেন্ডিস হাফ-সেঞ্চুরি করলেও তাকে ফিরিয়ে দেন তানভীরই। এছাড়া মাদুশকা, ভেল্লালাগে ও থিকশানাকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।
১৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ অনেকটাই বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়ে। তবে লড়াই চালিয়ে যান জানিথ লিয়ানাগে। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭৮ রানের এক সাহসী ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইও টিকলো না বেশিক্ষণ। মোস্তাফিজের বলে উইকেট হারিয়ে যখন ফিরলেন, তখন শ্রীলঙ্কার হারের পথই খুলে গেল।
শেষ পর্যন্ত লঙ্কানরা থামে ১৬ রানের ব্যবধানে। ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্সের জন্য তানভীর ইসলামকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। পাঁচ উইকেট নিয়ে কার্যত একাই লঙ্কানদের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দেন তিনি।
এই জয়ে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে ট্রফি নির্ধারক। সেখানে দুই দলের সামনেই সুযোগ—জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার।