বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি

বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি খরচে তৈরি হয়েছে ‘জিটিএ সিক্স’ ভিডিও গেম!


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম

বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি খরচে তৈরি হয়েছে ‘জিটিএ সিক্স’ ভিডিও গেম!
ছবি: সংগৃহীত

ভিডিও গেম দুনিয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আসছে বহুল আলোচিত ‘জিটিএ সিক্স’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী গেমটি মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে প্রি-অর্ডার কার্যক্রম।

গেমটি ঘিরে সবচেয়ে বড় চমক এর নির্মাণ ব্যয় ও সময়। যদিও রকস্টার গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে খরচের পরিমাণ প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, ‘জিটিএ সিক্স’ তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেট গেমটিকে বিনোদন জগতের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেট হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’-এর সম্মিলিত নির্মাণ ব্যয়ের চেয়েও বেশি। এমনকি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা নির্মাণের খরচকেও ছাড়িয়ে গেছে এই গেমের ব্যয়।

সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। দুবাইয়ের ৮২৮ মিটার উচ্চতার বুর্জ খলিফা নির্মাণে সময় লেগেছিল প্রায় ছয় বছর, যেখানে ‘জিটিএ সিক্স’ তৈরি করতে সময় লেগেছে ১২ বছরেরও বেশি।

গেমটি তৈরিতে কাজ করেছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, থ্রিডি অ্যানিমেটর, ভয়েস শিল্পী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি বিশাল দল। গেমের প্রতিটি খুঁটিনাটি গাছের ছায়া, আলোর প্রতিফলন থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল চরিত্রদের দৈনন্দিন জীবন—সবকিছুই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া গেমটির বৈশ্বিক প্রচারণার পেছনেও ব্যয় করা হয়েছে বিপুল অর্থ, যা মোট বাজেটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এত বড় বিনিয়োগের বিপরীতে আয়ের সম্ভাবনাও ব্যাপক। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিটিএ ফাইভ’ মাত্র তিন দিনেই ১০০ কোটি ডলার আয় করে রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তী এক দশকে ইন-গেম কেনাকাটা থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘জিটিএ সিক্স’ মুক্তির পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণ ব্যয় উঠে আসবে এবং নতুন আয় রেকর্ড তৈরি করবে।