ক্যাম্পাস

‘তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’ বলা সেই খুবি শিক্ষক বহিষ্কার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

‘তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’ বলা সেই খুবি শিক্ষক বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান জানান, যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়–২৪ হলের এক ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আনেন। গত ১৭ জুন বিষয়টি তদন্তে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রের সাত সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার পর ওই শিক্ষক নিয়মিত অস্বস্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে থাকেন। বার্তাগুলো ধীরে ধীরে আরও আপত্তিকর হয়ে ওঠে, যা মানসিকভাবে তাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। পরবর্তীতে সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী জানান, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি চান, এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির শিকার না হয়।

একই ডিসিপ্লিনের আরেক শিক্ষার্থীও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও মৌখিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বহু বছর ধরেই শিক্ষকটি বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন।