ক্যাম্পাস

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শিবিরকে দায় দিল ছাত্রদল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শিবিরকে দায় দিল ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে থাকা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনাটির দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন-আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হলের সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে হলের সামনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, লোহার পাইপ, ব্যাট-বলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো আড়াল বা লুকিয়ে ফেলেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। এ সময় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও উঠে এসেছে। তারা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলায় অংশ নেন।

এদিকে হামলার সময়ের একটি ভিডিওতে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আহসান হাবিবকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের একটি অংশকে ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, কোনো ‘নিরপেক্ষ সাংবাদিকের’ ওপর হামলা করা হয়নি; বরং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জিয়াউর রহমান হলের জিএস আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে সেখানে উপস্থিত ‘সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির’কে প্রতিহত করা হয়েছে।

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকার ছবি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এলেও এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

ঘটনার পর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সুলতান আহমেদ রাহী দাবি করেন, সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে ছাত্রশিবির ‘চক্রান্ত’ করছে। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভাই ও বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক এবং সত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহী আরও দাবি করেন, রাবি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলবেন না। সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরিতে ছাত্রশিবিরের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি এর নিন্দা জানান।

ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, হামলার ঘটনায় কোনো সাংবাদিক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

তবে একই ঘটনায় ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে হামলায় অভিযুক্ত আরেক নেতার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। একদিকে সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের কথা বলেছেন এবং হামলার জন্য পরোক্ষভাবে ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে সহ-সভাপতি আহসান হাবিব সাংবাদিকদের একটি অংশকে ‘গুপ্ত শিবির’ আখ্যা দিয়ে তাদের ‘প্রতিহত’ করার দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং হামলার পেছনের কারণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।