ক্যাম্পাস

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উদযাপন


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উদযাপন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্থাপত্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা ও বক্তৃতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ অক্টোবর সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘আবাসন মানুষের অধিকার: এটি নির্মাণ করি’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফ নাফে আস সাবে। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং শতোত্তো সবুজ জীবনযাপনের জন্য স্থাপত্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান স্থপতি অধ্যাপক মো. রফিক আজম। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আবদুল মতিন এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বি.সি. বসাক। স্বাগত বক্তব্য দেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া আফরিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফ নাফে আস সাবে স্থাপত্য বিভাগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উন্নত মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্থাপত্যের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকৃতির মাঝেই মানুষ তার প্রাণ খুঁজে পাবে। পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রকৃতিকে স্থাপত্যের মধ্যে নিয়ে আসার সময় হয়েছে।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক মো. রফিক আজম স্থাপত্যকে শুধু ভবন নির্মাণের কারিগরি বিষয় হিসেবে না দেখে মানুষ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনযাপনের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক তুলে ধরেন। বাংলাদেশের নদী, বন্যা ও পরিবর্তনশীল ভূপ্রকৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তার স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন।

মানুষের আনন্দ, সামাজিকতা এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকাকেও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক রফিক আজম। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা, স্থাপত্যচর্চা, নগরভাবনা এবং বাংলাদেশের স্থাপত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের অনুপ্রাণিত করে।

অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থীরা দেশীয় গাছের ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বন্যা ও নগরায়ণ, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং নির্মাণসামগ্রীর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে অধ্যাপক রফিক আজম বলেন, স্থাপত্যের অনেক সমস্যার সহজ সমাধান নেই। কোনো নির্মাণসামগ্রী কোথায়, কেন এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও সমানভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

বৃহৎ পরিবেশগত ও নগর সমস্যার সমাধানে গবেষণা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ স্থপতিদের দেশের স্থাপত্য ঐতিহ্য, পরিবেশ ও বাস্তবতাকে ভিত্তি করে বিশ্বপরিসরে নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তে স্থপতি মো. রফিক আজমের রচিত ‘রফিক আজম: জীবন, স্থাপত্য ও নগর’ গ্রন্থটি স্থাপত্য বিভাগকে উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য অধিদপ্তর, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী শামসুল আলম এবং স্থাপত্য বিভাগের বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থাপত্য ও নির্মাণ পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্যোগ ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য সহযোগী অধ্যাপক সানিয়া তাবাসসুম ও সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া শারমিন এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য জ্যেষ্ঠ প্রভাষক সোনিয়া শারমিনকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া আফরিনের সার্বিক সহযোগিতা এবং সহকারী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের উপস্থিতিও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক সারাহ বাশনীন সুচনা।

বিশ্ব স্থাপত্য দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগ মানবিক মূল্যবোধ, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে দায়িত্বশীল স্থাপত্যচর্চার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।