সারাবিশ্ব

তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, সমর্থন রাশিয়াকে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

তাইওয়ান নিয়ে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, সমর্থন রাশিয়াকে
ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের কাছে উন্নত সমরাস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ওয়াশিংটনের এমন নীতি তাইওয়ান প্রণালিতে অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক কিম মিয়ং চোলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি উসকানিমূলক এবং ওয়াশিংটনের দায়িত্বজ্ঞানহীন নীতির প্রকাশ।

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে কিম মিয়ং চোল বলেন, তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের শক্তিশালী জাতীয় ও সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র কতটা নিতে প্রস্তুত, তা ওয়াশিংটনের ভেবে দেখা উচিত। একই সঙ্গে এমন সংঘাতের পরিণতি মোকাবিলার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি চীনের সামরিক চাপের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা ৬৬টি নতুন এফ–১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি তাইওয়ানের বহরে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে এসব যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয়েছিল। এর পরপরই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া এল।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত নৈকট্যও এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চলতি বছরের জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে তাইপেই চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও নিজেদের আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিন উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় মস্কোর প্রতি উত্তর কোরিয়ার সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন কিম জং উন। তিনি বলেন, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার লড়াই চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

২০২৪ সালের জুনে পুতিন ও কিম জং উন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি সই করার পর দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে বলে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন হিসাব থেকে জানা গেছে।