সারাবিশ্ব

কাজীদের ক্ষমতা থাকছে না, সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ এএম

কাজীদের ক্ষমতা থাকছে না, সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব
ছবি: সংগৃহীত

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিম বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে। এর ফলে কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে সরকারি ব্যবস্থার অধীনে চলে আসবে পুরো প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একই ধরনের সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই দায়িত্ব পালন করবেন সরকারি রেজিস্ট্রাররা।

তিনি জানান, বিয়ে নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে আসাম সরকার মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। ওই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষমতা তুলে নেওয়া হয়। তবে নতুন করে এই দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।

২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে এবার সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা।

২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে বর ও কনের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে ওই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল।

২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে বিয়ে নথিভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। নতুন বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে এবার সেই প্রক্রিয়াই স্পষ্ট করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। পাশাপাশি বয়স যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারিও সহজ হবে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করতে সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে আসামের মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।