জাতীয়

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই করল বিমান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই করল বিমান
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার ৭ অক্টোবর রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংনির্ভর বিমানের বহরে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। চুক্তি অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কিনবে বিমান।

চারটি এ৩৫০-৯০০ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করা হবে। আর ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তুলনামূলক কম যাত্রী ধারণক্ষমতার কারণে যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজ প্রয়োজন হয় না, সেসব রুটে এ৩২১নিও ব্যবহার করা হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ।

চুক্তি অনুযায়ী, এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে চলতি বছর দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। দুই দফার চুক্তি মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের কেনা উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে। চুক্তির সময় পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় পর্যায়ক্রমে মূল্য পরিশোধ করা হবে।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। এর মধ্যে ১৯টি প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি সরু কাঠামোর উড়োজাহাজ।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়ার কথা রয়েছে।

পুরোনো উড়োজাহাজগুলো বাদ পড়ার আগে সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

বর্তমানের ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে চুক্তি করা ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াতে পারে। তবে নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিমান।