সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জে পূজার প্রস্তুতি সভায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ এএম

মুন্সীগঞ্জে পূজার প্রস্তুতি সভায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি
ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ তাকে সভাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

বুধবার ৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান ও শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়াসহ উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদক এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভায় উপস্থিত বিভিন্নজনের বক্তব্য শেষে সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এ সময় পেছন দিক থেকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরও বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন বিএনপির কয়েকজন নেতা তাকে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে নুরুজ্জামান মীরের পরিচয় জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপস্থিত অন্যরা তাকে আবার হলরুমে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।

মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর ইসলাম খানের বক্তব্যের একটি অংশের প্রতিবাদ জানান নুরুজ্জামান। ওই বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ তাকে হলরুম থেকে বের করে নিয়ে যায়। এ সময় মারামারির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নুরুজ্জামান মীর বলেন, প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে মারধর করে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, নুরুজ্জামান মীর যে উপজেলা জামায়াতের আমির, তা কেউ চিনতেন না। তিনি বক্তব্যে জামায়াতের নাম উল্লেখ করে কোনো কথা বলেননি। সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় নুরুজ্জামান কোনো পরিচয় না দিয়ে বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। তাকে কেউ না চেনার কারণে সমস্যা তৈরি হয়। তবে এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান বলেন, সভায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।