রাজধানী
রাস্তায় শোকাহত শিক্ষার্থীদের ৬ দাবিতে উত্তাল মাইলস্টোন
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৫ শিক্ষার্থীসহ মোট ২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একজন পাইলট ও একজন শিক্ষিকাও রয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে নানা স্লোগানে রাস্তায় অবস্থান নেন। তাদের হাতে লেখা ছিল— ‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘বিচার চাই বিচার চাই’, ‘We want justice’। বিক্ষোভের ফলে দিয়াবাড়ী গোলচত্বরে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দেখা যায়, কলেজ ভবন থেকে বের হওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি ঘিরে ধরেন তারা। তখন ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, এতো বড় দুর্ঘটনার পরেও কেউ দায় নিচ্ছেন না, কাউকে এখন পর্যন্ত জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা কোনো সহিংসতা চাই না। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা এ অবিচারের বিচার চাই।”
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করে আন্দোলন চালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীরা যে ছয়টি দাবি উত্থাপন করেছেন, তা হলো—
১. দুর্ঘটনায় নিহতদের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা প্রকাশ।
২. আহতদের সঠিক তালিকা প্রকাশ।
৩. দুর্ঘটনার পর শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করা।
৬. সামরিক প্রশিক্ষণের পদ্ধতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সংস্কার।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এর আগে বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল এবং মাত্র ১২ মিনিট পরই দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই তা স্কুল ক্যাম্পাসে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ হতবাক ও ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন মহল থেকে এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।