অর্থনীতি
এলডিসি উত্তরণে মসৃণ ও টেকসই পথ নিশ্চিতের আহ্বান ড. তিতুমীরের
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উত্তরণ হতে হবে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া যেন কোনো দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে, বরং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘এলডিসি-জিআইএফ মেকানিজম ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড হাই-লেভেল ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলো এখনো বিভিন্ন কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অভিঘাত এসব দেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, শুধু এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসাই যথেষ্ট নয়; উত্তরণের পরও যেন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সে জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, জ্বালানি খাতে রূপান্তর এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে একটি মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এলডিসিগুলোতে এখনো প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ ও কার্যকর প্রয়োগ পর্যাপ্ত নয়।
ড. তিতুমীর আরও বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলো তাদের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলডিসি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফ্যাসিলিটেশন (এলডিসি-জিআইএফ) উদ্যোগটি এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্প খাতে এর কার্যকর প্রয়োগ ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঠামোগত অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর অবদান রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ড. তিতুমীরের বক্তব্যে এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে, সঠিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরণকারী দেশগুলো তাদের উন্নয়নযাত্রাকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারে।