বটমলী হোমের প্লাটিনাম জুবিলি শুক্রবার

১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৪:৫৬ পিএম | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:২৫ পিএম


বটমলী হোমের প্লাটিনাম জুবিলি শুক্রবার

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আগামীকাল শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব (প্লাটিনাম জুবিলি) পালন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। 'প্রাণের উচ্ছ্বাসে শিকড়ের টানে এসো বটমলী প্রাঙ্গণে' এই প্রতিপাদ্যকে সঙ্গে নিয়ে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণ পত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন। আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি'ক্রুজ।

দুই দিনে থাকছে র‍্যালি, থিমসং, বক্তব্য, সম্মাননা প্রদান, র‍্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি তেজগাঁও মহাধর্মপ্রদেশের অধীনে অবস্থিত। ১৯৪৬ সালের ১ এপ্রিল কয়েকজন অনাথ নিয়ে বটমলী কোসব এর গোড়াপত্তন হয়। তখন সংঘের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন সিস্টার মেরী গ্লোরিয়া সিএসসসি। তিনি অনাথদের সুশিক্ষিত করার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। সিস্টার মেরী পের্পেতুয়া ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ৯ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে বিদ্যালয়টিকে গড়ে তোলেন। ১৯৫৫ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রূপে আত্মপ্রকাশ করে। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়রূপে ১৪ বছর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে অবশেষে ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯ম শ্রেণি চালুর অনুমতি লাভ করে। এসময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন সিস্টার গ্লোরিয়া ভ্যালতোভিয়োস সিএসসি। তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এ পদে নিয়োজিত ছিলেন। তারপর সিস্টার এলজিয়া আরএনডিএম ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সিস্টার মেরী গেট্রুড এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিস্টার মেরী সুপ্রীতি এসএমআরএ। ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি দায়িত্ব পান। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ও সাবেক কারাতে ও শুটিং খেলোয়াড় অনামিকা হক মুক্তা এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন।

/এএস


বিভাগ : শিক্ষা