শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিলের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়


রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিলের সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও স্থানীয় রাজনীতি ও প্রভাবশালীদের আধিপত্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ রিভিউ-সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ফলে সভাপতি পদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি হতে আর ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে ২০২৪ সালের আগের নিয়মে ফিরে যাচ্ছে এই পদে নিয়োগের বিধান।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদটি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; নিয়োগ, বাজেট অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্তে এই পদধারীর ভূমিকা থাকে। তাই এই পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন।

তারা বলছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত তুলে দিলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তিতে অনেকেই এ পদে আসার সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৪ সালে সরকার নতুন বিধিমালায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতির জন্য ন্যূনতম এইচএসসি পাস বাধ্যতামূলক করেছিল। পরে সংশোধন করে স্নাতক ডিগ্রি শর্ত নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, এ ধরনের যোগ্যতা নির্ধারণ করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো আরও দক্ষভাবে নেওয়া সম্ভব হবে এবং পরিচালনায় মান বজায় থাকবে।

‘দখল রাজনীতি’ ফেরার আশঙ্কা 

শিক্ষক সংগঠনের কয়েকজন নেতা বলেন, অতীতে অনেক এলাকায় স্কুল-কলেজের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, মামলা ও প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করেছেন।

তাদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত তুলে দিলে এই প্রবণতা আবার বাড়তে পারে এবং এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।

পুনর্বিবেচনার দাবি 

শিক্ষাবিদদের একটি অংশ সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অন্তত ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও স্বচ্ছ নির্বাচন পদ্ধতি নিশ্চিত করা না হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।