শিক্ষা
শিক্ষা খাতে আবারও রদবদল, নতুন উপ-উপাচার্য পেল চার বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
বুধবার (১০ জুন) সকালে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিয়োগ পেয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) হিসেবে বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন এবং প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস সিদ্দিকী এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে ফার্মেসি বিভাগের ডিন ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিন এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ রেজুয়ানুল হককে অব্যাহতি দিয়ে মূল পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ শীর্ষ পদে ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও এসব নিয়োগ চার বছরের জন্য দেওয়া হয়, বাস্তবে অনেকেই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারছেন না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘিরে অস্থিরতা, পদোন্নতিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়টি সরকারই নির্ধারণ করবে।