সারাবিশ্ব

"আমেরিকা, তুমি কি পতনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছো?" - যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের হুঁশিয়ারি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫, ০৯:২২ এএম

"আমেরিকা, তুমি কি পতনের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছো?" - যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এবার তিনি সরাসরি মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের মনোভাবকে আক্রমণ করে একটি ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পতনের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি প্রাচীন চীনা রাজবংশগুলোর পতনের ইতিহাস টেনে এনে আমেরিকার বর্তমান নীতিকে তুলনা করেন সেই আত্মবিধ্বংসী পথের সঙ্গে।

শি লিখেন, “চীন জানে মহাশক্তিগুলো কিভাবে নিজেদের যুদ্ধযন্ত্রের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইতিহাস আমাদের তা শিক্ষা দিয়েছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে শক্তিশালী কিন রাজবংশ যুদ্ধরত রাজ্যগুলোকে একত্র করেছিল। তারা তৈরি করেছিল মহান প্রাচীর এবং প্রতিষ্ঠা করেছিল চীনের প্রথম সম্রাটের সেনাবাহিনী — টেরাকোটা আর্মি। কিন্তু যুদ্ধ-যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার, লাগাতার যুদ্ধ ও জনগণের ওপর চরম শোষণের ফলে মাত্র ১৫ বছরের মাথায় সেই রাজবংশ পতনের মুখে পড়ে।

পরবর্তী উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন অষ্টম শতাব্দীর পরাক্রমশালী তাং রাজবংশের কথা। এই সাম্রাজ্য এক সময় বিশ্বের দূরবর্তী প্রান্ত থেকেও কর আদায় করত। কিন্তু বিজয়ের নেশায় তারা সেনাবাহিনীকে মধ্য এশিয়ার গভীরে পাঠায়। ফলে সামরিক বাহিনীর অপ্রয়োজনীয় সম্প্রসারণ ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত আন লুশানের নেতৃত্বে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রাজধানী চাংআন পুড়ে যায় এবং সাম্রাজ্য অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংসের পথে চলে যায়।

শি জিনপিং আরও বলেন, ১৩ শতাব্দীতে চেঙ্গিস খানের অজেয় অশ্বারোহী বাহিনী ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে। কিন্তু সেই অতি সম্প্রসারণই সাম্রাজ্যকে তাড়াতাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত করে তোলে এবং একে ইতিহাসের অন্যতম স্বল্পস্থায়ী রাজবংশে পরিণত করে।

চীনা প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, “৫০০০ বছরের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে — যা আমেরিকা শিখতে অস্বীকার করে। কোনো সাম্রাজ্য বাইরের শত্রুর কারণে ধ্বংস হয় না, তারা নিজেরাই নিজেদের যুদ্ধযন্ত্রের অতৃপ্ত ক্ষুধার নিচে ধ্বংস হয়।”

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭৫০টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার সামরিক খাতে ব্যয় করে যাচ্ছে। এই প্রবণতাকে ধ্বংসাত্মক আখ্যা দিয়ে শি প্রশ্ন তোলেন: “আপনারা কি ইতোমধ্যে শুনতে পাচ্ছেন সেই প্রেতাত্মার পদধ্বনি, যারা পতনের মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসছে?”

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্য শুধু আমেরিকার প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি চীনের বিশ্বরাজনীতিতে আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। পশ্চিমা সামরিক নীতির বিরোধিতা করে চীন নিজের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করছে, যেখানে অতীতের শিক্ষা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সামনে রাখা হচ্ছে — অন্তত তাদের ভাষ্যমতে।

এই পোস্টকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি চীন-আমেরিকা ঠাণ্ডা লড়াইয়ের নতুন মাত্রা।