সারাবিশ্ব
ভিক্ষুদের ফাঁদে ফেলে ১৪৩ কোটি টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ‘মিসেস গলফ’
থাইল্যান্ডজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক তরুণীর হাতে অন্তত ৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা।
যৌনতার ফাঁদে ফেলে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ভিক্ষুদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী উইলাওয়ান এমসাওয়াত, যিনি ‘মিসেস গলফ’ নামে পরিচিত।
থাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই দেশটির রাজধানী ব্যাংককের নোনথাবুরি এলাকায় তার বিলাসবহুল বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৮০ হাজারেরও বেশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও, যেগুলোর অনেকগুলোতেই তাকে ভিক্ষুদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়।
উইলাওয়ান প্রেমের সম্পর্কের ছলে ভিক্ষুদের ফাঁদে ফেলতেন এবং গোপনে তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করতেন বিপুল অঙ্কের অর্থ।
তদন্তে জানা যায়, এসব অর্থ ভিক্ষুরা নিজেদের পকেট থেকে দেননি বরং মঠের দানবাক্স, উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল এবং মন্দির ফান্ড থেকে তুলে দিতেন।
এই ঘটনায় জড়িত ৯ জন ভিক্ষুকে গেরুয়া পোশাক পরার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তার ৭৩তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ৮০ জন সন্ন্যাসীর নিমন্ত্রণ বাতিল করেন এবং ৮১ জনকে দেওয়া উচ্চতর ধর্মীয় উপাধি বাতিল করে দেন।
জিজ্ঞাসাবাদে উইলাওয়ান জানিয়েছেন, তাকে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতেন বিভিন্ন সন্ন্যাসীরা। এই অর্থ দিয়ে তিনি বিলাসবহুল জীবন, ফ্যাশন ও জুয়ায় ব্যয় করতেন। এমনকি কিছু টাকা অনলাইন গেমিং ও ক্যাসিনোতেও ঢালতেন।
থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উল্লেখ্য, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, ফলে এমন ঘটনায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ, লজ্জা ও ধর্মীয় অনুভূতির আঘাত প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ বলছে, উইলাওয়ানের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আরও ভিক্ষু ও মঠ এই চক্রের শিকার হয়েছে কিনা—তা যাচাই করা হচ্ছে।