সারাবিশ্ব

নেপালজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে জেন-জিদের বিক্ষোভ, আজও রাস্তায় তরুণরা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৬ এএম

নেপালজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে জেন-জিদের বিক্ষোভ, আজও রাস্তায় তরুণরা
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন ছুঁয়ে যাচ্ছে একের পর এক জেলা। বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালেও তরুণরা রাস্তায় নেমে এসেছে, নানা স্থানে চলছে নতুন করে সমাবেশ ও মিছিল।

নেপালের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, আজ সকালে রাজধানীর নতুন বানেশ্বরে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়েছেন শত শত তরুণ। তাদের কারও হাতে নেই ব্যানার কিংবা পোস্টার, নেই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়। উপস্থিত এক তরুণ বলেন, “গতকালের রক্তাক্ত ঘটনা প্রমাণ করে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমি তরুণদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”

এর আগের দিন সোমবার, ‘জেনারেশন জি’ নামে একটি তরুণ সংগঠনের ডাকে দুর্নীতি ও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে ১৯ জন নিহত হন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির শাসকদল এবং বিরোধী নেতারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কাঠমান্ডুর বিস্তৃত এলাকা—বিশেষ করে রিং রোড সংলগ্ন অঞ্চলজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশের জেলা ললিতপুরেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নেপালের আন্দোলন আর শুধুমাত্র রাজধানীভিত্তিক নেই—এটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সোমবারই দেশজুড়ে অন্তত ১৩টি শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। দামাক, বীরাটমোড়, ইটাহারি, বীরাটনগর, জনকপুর, ভরতপুর, পোখারা, বীরগঞ্জ, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া, তুলসিপুর ও ধানগড়িতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে।

ইটাহারিতে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত ও একজন আহত হন। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেখানকার সাব-মহানগর কার্যালয়, মেয়রের দপ্তর ও আশপাশের ভবন। এরপর দ্রুত কারফিউ জারি করা হয় শহরের মূল এলাকায়।

বীরাটমোড়েও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। দামাকে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বাড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ওই এলাকায় রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়।

পোখারায়ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সমাবেশ, মিছিল এবং পাঁচজনের বেশি জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সহিংস হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং জলকামান ব্যবহার করে। এতে অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

নেপালজুড়ে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে তরুণ সমাজ। মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করলেও পরে সাধারণ মানুষও এতে যোগ দিয়েছেন। ফলে আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র ‘তরুণদের দাবি’তে সীমাবদ্ধ নেই—তা পরিণত হয়েছে দেশব্যাপী গণআন্দোলনে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল স্পেসে নিয়ন্ত্রণ আর ক্ষমতার দমননীতি—এই ত্রিমুখী ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এখন নেপালের রাজপথে। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবার আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে শহরে, জেলা থেকে জেলায়।