সারাবিশ্ব

ইইউতে ব্রিটেনের ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাল ফ্রান্স


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

ইইউতে ব্রিটেনের ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানাল ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেন আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে-ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের এমন মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ব্রিটেন ইইউতে পুনরায় যোগ দিতে চাইলে ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে তা স্বাগত জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ‘সুবিধা ও অসুবিধা’ পর্যালোচনা করার পর তার মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার প্রয়োজনে ‘পুরো পথ’ এগিয়ে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও সামনে চলে এসেছে।

২০১৬ সালের গণভোটে ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর দেশটির রাজনীতিতে ব্রেক্সিটকে ঘিরে যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, বার্নহামের বক্তব্যের পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তার মন্তব্যের তাৎক্ষণিক সমালোচনা করেছেন ডানপন্থী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ফলে ব্রেক্সিট ইস্যু আবারও ব্রিটিশ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বার্নহাম বলেন, ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে। তার ভাষায়, ব্রেক্সিটের কারণে দেশটি এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সেটিও নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহাম জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠককে সামনে রেখে ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বুধবার বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেট ও কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ব্রিটেন ‘পুরো পথ’ এগিয়ে গিয়ে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং প্রতিটি বিকল্পের কী ধরনের সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটেনের ইইউতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

মাখোঁ বলেন, ব্রিটিশ জনগণ যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে আসতে চায় এবং প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সেই পথে এগিয়ে যান, তাহলে এটি শুধু ব্রিটেনের জন্য নয়, ইউরোপের জন্যও ভালো খবর হবে। এ সময় ব্রিটেনকে উদ্দেশ করে তিনি সরাসরি বলেন, ‘ফিরে আসুন।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও মাখোঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য যদি আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করে, তাহলে স্পেন অবশ্যই সেটিকে স্বাগত জানাবে। ব্রিটেনের জনগণের জন্য আবারও ‘দুই হাত বাড়িয়ে দেওয়ার’ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে চায়, সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়ার দায়িত্ব মূলত লন্ডনের।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বালাজ উজভারিই বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগিয়ে নিতে চায়, তা তুলে ধরার দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকারের।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ সরকার যেসব বিকল্প প্রস্তাব দেবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনায় বসতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রেক্সিটের কয়েক বছর পর ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন করে কোন দিকে এগোয়, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং মাখোঁ ও সানচেজের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ইস্যুটিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক ও ব্রিটিশ রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।