সারাবিশ্ব

গাজায় নিজেদের গুলিতে প্রাণ হারাল ৩১ ইসরায়েলি সেনা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

গাজায় নিজেদের গুলিতে প্রাণ হারাল ৩১ ইসরায়েলি সেনা
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চলমান অভিযানে নিজেদের বাহিনীর গুলিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলের অন্তত ৩১ সেনা। এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা বন্ধুবান্ধব সেনাদের ভুল গুলিতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও।

শুক্রবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এভাবে নিজেদের গুলিতেই প্রাণ গেছে কয়েক ডজন সেনার।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এই অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির ৪৪০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে অভিযান পরিচালনার সময় নানা দুর্ঘটনায়—যা মোট সেনা মৃত্যুর প্রায় ১৬ শতাংশ।

এই ৭২ জনের মধ্যে ৩১ জন নিহত হয়েছেন ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ঘটনায়। এছাড়া ২৩ জন মারা গেছেন গোলাবারুদ বিস্ফোরণ বা সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায়, ৭ জন সাঁজোয়া যানচাপায় পিষ্ট হয়ে এবং ৬ জন অজ্ঞাত গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রাণ হারান।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার অভিযানে আরও ৩২ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কেবল দুজন মারা গেছেন অভিযান সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায়।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, আরও পাঁচজন সেনা নিহত হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া নানা দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে রয়েছে—উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়া এবং প্রকৌশল সরঞ্জাম ব্যবহারে অসাবধানতা। গত বৃহস্পতিবার রাতেও এ ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে সেটির বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ৮৮২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬ হাজার ৩২ জন।

অন্যদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলা থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা ভেঙে পড়ে মার্চের শেষভাগেই। এরপর থেকে আরও ভয়াবহ রূপ নেয় সংঘর্ষ।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই সংখ্যাটা প্রতিদিনই বাড়ছে।

গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চাপে রয়েছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এরইমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) তার বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ বা জেনোসাইডের মামলার কার্যক্রম চলছে।

যুদ্ধবিরতির জন্য বিশ্বজুড়ে বারবার আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েল এখনো গাজায় তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও তারা ক্রমেই বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ছে—ফ্রেন্ডলি ফায়ারের মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।