সারাবিশ্ব

সিরিয়ায় সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষ: জাতিসংঘ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম

সিরিয়ায় সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষ: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুইদা প্রদেশে চলমান সহিংসতায় অন্তত ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (IOM)।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রবিবার (২০ জুলাই) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। সহিংসতার কারণে সুইদা শহরজুড়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (SOHR) জানিয়েছে, সুইদা শহরে ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের হাসপাতাল ও ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা নিয়ে সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের প্রথম একটি কনভয় শহরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, তারা দ্রুজ সম্প্রদায়ের জন্য চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “সিরিয়ায় শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হলে, যেই নৃশংসতা ঘটিয়ে থাকুক না কেন—সরকারপক্ষীয় বা অন্য যে কেউ—তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

সহিংসতায় বিপর্যস্ত সুইদা শহর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের মিয়ারবাহ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ। সেখানে একটি পুরনো স্কুল এখন বেদুইন শরণার্থীদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভবনের দেয়ালে গুলির ছিদ্র ও ধ্বংসস্তূপ এখনো সেই দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে।

ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, বয়স্ক বেদুইন নারীরা পানির ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। এসব শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু, যাদের জীবন এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় বন্দি।

সুইদা শহর থেকে বাস্তুচ্যুত এক নারী বলেন, “সরকার যদি দায়িত্ব নেয়, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে দ্রুজ ও বেদুইনরা একসঙ্গে থাকতে পারবে। কিন্তু সরকার না থাকলে বেদুইনরা কখনোই দ্রুজদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আশঙ্কা—সহিংসতা অব্যাহত থাকলে সিরিয়ার মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে, এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে।