সারাবিশ্ব

হরমুজ প্রণালী বন্ধে ১০ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

হরমুজ প্রণালী বন্ধে ১০ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে এবং বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, খুব শিগগিরই প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। রোববার (১ মার্চ) রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তেল ব্যবসায়ীদের বরাতে জানা গেছে, রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করলেও তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।

বাণিজ্যিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারির পর বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউসগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশেরও বেশি এই জলপথ দিয়েই হয়ে থাকে।

অজয় পারমার আরও বলেন, সপ্তাহের শুরুতে বাজার খোলার পর তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। যদি প্রণালীটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকে, তাহলে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ওয়াশিংটন-কে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ওপেক প্লাস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। তবে এই পরিমাণ বৈশ্বিক মোট চাহিদার মাত্র ০.২ শতাংশেরও কম, যা বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি আনতে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি-এর অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানান, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব বা আবুধাবির বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করা হলেও দৈনিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। রাইস্ট্যাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংকটের প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার ও শোধনাগারগুলো এখন তাদের তেলের মজুত পুনর্মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে বিকল্প শিপিং রুট ও নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার সন্ধান চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়েও পড়বে।