সারাবিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৩ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে হামলা ইরানের
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আল-আজরাক এলাকার দিকে লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হলেও এর কিছু ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কুয়েতের জেনারেল স্টাফ জানায়, তারা আকাশে শনাক্ত হওয়া লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করছে, যদিও এসবের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, আল-আজরাক এলাকার একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো হামলার জবাব ছাড় দেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চাইছে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইরান।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলা চলমান আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না; বরং এটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে।