সারাবিশ্ব

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৭


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৭
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে সংঘটিত এ হামলায় একাধিক গুদাম, লজিস্টিকস কেন্দ্র ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান। জেলেনস্কির মতে, সময়মতো এসব প্রতিরোধ ব্যবস্থা পাওয়া গেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া মোট ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ছোড়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি, যা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কয়েক মাস ধরেই ইউক্রেনের কাছে মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এটিই দেশটির সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গুদাম, অবকাঠামো ও একটি রেলস্টেশন। এতে একটি ব্রুয়ারি, নির্মাণসামগ্রীর গুদাম এবং একাধিক বেসামরিক লজিস্টিকস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশের সাতটি লজিস্টিকস কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ এবং বিতরণে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে ইউক্রেন আবারও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত সরবরাহ চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স