সারাবিশ্ব
ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার দাবি, নিহত ১০ ও আহত ১৪
ইয়েমেনের তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশে সৌদি আরবের চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। তবে হতাহতের এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আল-মাসিরাহর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তাইজ প্রদেশে সৌদি বিমান হামলায় আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আল-জাওফ প্রদেশে আরও দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেছিলেন, ২৪ ঘণ্টায় তাইজ, আল-জাওফ ও মারিবে মোট ২৮টি সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সময়ে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। চলমান সংঘাতের কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক যোগাযোগপথ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের মোখা বন্দরনগরীতেও সৌদি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার দাবি করেছিল হুথি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। এসব ঘটনা থেকে দেশটিতে নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের শিকড় ২০১৪ সালে, যখন হুথি যোদ্ধারা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট দেশটিতে অভিযান শুরু করে। এরপর কয়েক বছর ধরে চলা সংঘাতে ইয়েমেন ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়ে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে সংঘাত কমলেও চলতি বছরের জুলাই থেকে পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তার শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এই অঞ্চলে সংঘাত আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।