সারাবিশ্ব

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলল আইআরজিসি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলল আইআরজিসি
ছবি: সংগৃহীত

ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এসব কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান হওয়া প্রয়োজন।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত পশ্চিম এশিয়া থেকে তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে দেওয়া। সংগঠনটির দাবি, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি; বরং এর ফলে বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতা আরও বেড়েছে।

বিবৃতিতে ইরাকে প্রায় দুই দশক ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযান ও উপস্থিতির ফলে সৃষ্ট মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরে আইআরজিসি। তাদের দাবি, দীর্ঘ সামরিক হস্তক্ষেপের পর ইরাকি জনগণের ক্ষোভ ও বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে ইরাক থেকে সরে যেতে হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী ইরাকে সামরিক অভিযানের সময় প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সময়ে ইরাক যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চার ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আইআরজিসি মনে করে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে শুধু একটি সামরিক পরিবর্তন হিসেবে দেখলে হবে না; এটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সংগঠনটি এই প্রত্যাহারকে নিজেদের ভাষায় ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

তবে আইআরজিসির এসব বক্তব্য তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ইরাক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে।