জাতীয়

ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী পুনঃখনন ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নে নেওয়া ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলক উন্মোচনের পর তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও আশপাশের এলাকায় বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা বড় ধরনের সমস্যা হয়ে আছে। এসব সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষি ও সেচ সুবিধা বাড়াতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় আরও কয়েকটি কর্মসূচি রাখা হয়েছে। সকালে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফেনীতে এটি তাঁর প্রথম সফর।

পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। একই অনুষ্ঠানে ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় উদ্বোধনী দিনে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে ১ লাখের বেশি কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক মুদ্রিত কৃষক কার্ড পাবেন।

ফেনীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলা, নদীভাঙন কমানো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।