সারাবিশ্ব

মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ হুতিদের বিরুদ্ধে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ হুতিদের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা দাবি করেছে হুতিরা।

মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকেই পবিত্র মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক রূপান্তরক যন্ত্র অচল হয়ে পড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।

জোট জানিয়েছে, হামলার পর তদন্ত এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া চালকবিহীন আকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এতে হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে হুতি নিয়ন্ত্রিত সাবা সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মক্কায় হুতিদের হামলার বিষয়ে আগে তোলা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন করে এমন দাবি তুলেছে।

সৌদি জোটের ভাষ্য, মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করাও এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি।

পবিত্র স্থান ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে হুতিদের ছোড়া চারটি চালকবিহীন আকাশযান ধ্বংস করার দাবি করেছে জোট। একই দিনে খামিস মুশাইত ও জাজান শহরের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ, নিহত ৩০ হুতি যোদ্ধার দাবি

মদিনায় হামলার অভিযোগের মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর দাবি, হুতিদের বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের জাবাল হাবাশি ও মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-আকরুদ এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে হুতিরা।

সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর দাবি, শুধু আল-আকরুদ এলাকাতেই অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। এ ছাড়া তাইজের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও মাকবানাহ এলাকার হুমাইর রণক্ষেত্রে ছয়টি বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

লড়াই তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় একটি অংশ তাইজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে তাইজ প্রদেশেই আশ্রয় নিয়েছেন ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ। এরপর রয়েছে লাহিজ প্রদেশ, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।

ইয়েমেন সরকারকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার সহায়তা

তাইজে সংঘর্ষের মধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির জানিয়েছেন, সরকারি অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, আর্থিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত মাসে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতিরা। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরনগরী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যপথের কাছাকাছি অবস্থিত।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন পণ্য এবং রাশিয়ার তেল পরিবহনেও বাব আল-মান্দাব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মোখা থেকে হুতিদের আরও অগ্রসর হওয়া ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাইজ ও পশ্চিম উপকূলের সামরিক কর্মকর্তারা মোখা পুনর্দখলের চেষ্টার কথাও জানিয়েছেন।