সারাবিশ্ব
মার্কিন সেনাদের ওপর আগুনের বৃষ্টি ঝরানোর হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার তৎপরতার মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আগের সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেছিলেন, শত্রুপক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তার ওই মন্তব্যের সময়ের কাছাকাছি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। এর প্রেক্ষিতে গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনী স্থলপথে প্রবেশ করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে।
যুদ্ধ শুরুর এক মাস পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকা সত্ত্বেও স্থল অভিযান শুরু হলে তা দ্রুত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইতোমধ্যে উপসাগরীয় জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশগুলো এই সংঘাতের কারণে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সম্পৃক্ততায় বাব এল-মান্দেব জলপথেও জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গালিবাফ আরও বলেন, ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তারা হামলা আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার লক্ষ্য হতে পারে জ্বালানি স্থাপনাগুলো।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার কথা বলছেন, তখন তাদের মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞের মতে, আঞ্চলিকভাবে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হলেও ইসরায়েল একাধিক দেশে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি জানান, ইসরায়েল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট নির্ধারণ করেছে, যা একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে বিপুল সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে এবং যুদ্ধের সময় এই সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।
এলমাসরির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে অঞ্চলটি।
সব মিলিয়ে, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।