সারাবিশ্ব
কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে মাংসের দোকান গুঁড়িয়ে দিলো বিজেপি
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় বিজয় উদযাপনের সময় কয়েকটি মাংস বিক্রির দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। এমন ঘটনাকে ‘গুন্ডামি’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নীরবতার দিকে প্রশ্ন ছুড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।
আজ বুধবার (০৬ মে) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস।
টিএমসির অভিযোগে বলা হয়েছে, বিজয় উদযাপনের সময় বিজেপি সমর্থকরা কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় কয়েকটি মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহার করেছে। এই ঘটনাটি নির্বাচনের ফলাফলের পর ‘ভীতি প্রদর্শনের একটি ধারা’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলটি আরও অভিযোগ করেছে, মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটার সময় নিষ্ক্রিয় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারা ‘বুলডোজার বিচার’ এই কথাটি ব্যবহার করেছিলেন। তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি অবৈধ দখল গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে টিএমসি বলেছে, ‘বিজেপির পরিবর্তন এসে গেছে এবং তা এসেছে বুলডোজার নিয়ে নির্লজ্জ গুন্ডামির কর্মকাণ্ডে। বিজেপি সমর্থকদের দল নিউ মার্কেট এলাকার কাছে তাণ্ডব চালিয়েছে, দোকানপাট ভাঙচুর করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।’
ঘটনাটির একটি ভিডিও সংযুক্ত করে দলটি বলেছে, ‘এটি ছিল এমন একটি দলের উদযাপন, যারা আস্থার কথা বলেছিল এবং সন্ত্রাস ছড়িয়েছিল।’ তৃণমূল আরও যোগ করেছে যে, এই অভিযোগকৃত ঘটনাটি রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। তবে স্বাধীনভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি পিটিআই।
এর আগে সোমবার ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত করে, যার ফলে রাজ্যটিতে ইতি ঘটে টিএমসির একটানা ১৫ বছরের শাসনের।
টিএমসির রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন এই কথিত ঘটনাটি তুলে ধরে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মধ্য কলকাতায়, নিউ মার্কেটের কাছে পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে মাংসের দোকান ভাঙার জন্য একটি বুলডোজার আনা হয়েছিল। সিএপিএফ আশেপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এটাই বিজেপি। বিশ্বকে এই ছবিগুলো দেখতে দিন।’
এ ঘটনায় বিজেপি তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগগুলোর কোনো জবাব দেয়নি। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে তারা কোনো ধরনের সহিংসতা বা প্রতিশোধমূলক কাজকে সমর্থন করেন না।