সারাবিশ্ব

ইসরাইলি হামলায় গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের ছেলেসহ নিহত ৪


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম

ইসরাইলি হামলায় গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের ছেলেসহ নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এক শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল বুরশের বড় ছেলে বাসির আল বুরশও রয়েছেন। এছাড়া শুক্রবারের হামলায় আহত এক ব্যক্তিও শনিবার মারা গেছেন।

চিকিৎসাসূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হন। পরে শুক্রবারের হামলায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়।

শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। এতে একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।

হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভালেও গাড়িতে থাকা ব্যক্তির মরদেহ পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরে মরদেহটি আল শিফা চিকিৎসা কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গাড়িটিতে হামলা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়িটি জ্বলছিল।

এর আগে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল বুরশের বড় ছেলে বাসির আল বুরশ। আজ জাহরা এলাকায় একটি শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম দিকে ওই হামলা চালানো হয়। এতে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

হামলার পর বাসিরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুনির আল বুরশকে ছেলের কম্বলে মোড়ানো মরদেহ বহন করতে দেখা যায়। পরে স্বজনদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।

মুনির আল বুরশ জানান, হামলার আগে তার ছেলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, ইসরাইলি বাহিনী তাদের দুজনকেই লক্ষ্য করছে। তাঁবু থেকে বের হওয়ার পরপরই বাসির হামলার শিকার হন।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, স্থানীয় সংগঠন পরিচালিত বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলার সময় ওই হামলা হয়। একটি ফিল্ড হাসপাতালের পেছনে এসব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁবু বের হওয়ার সময় বাসিরকে ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাসির আল বুরশের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

হানি মাহমুদ বলেন, হামলাটি কেন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি।