খেলা

মেসি ১৭ বছরেও যা পারেননি, বার্সার হয়ে সেই কীর্তি গড়লেন রাফিনিয়া


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ এএম

মেসি ১৭ বছরেও যা পারেননি, বার্সার হয়ে সেই কীর্তি গড়লেন রাফিনিয়া
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। শনিবার সেভিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। দলের প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রাফিনিয়া। হ্যাটট্রিক করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে।

স্প্যানিশ পরিসংখ্যানবিদ মিস্টারচিপের তথ্য অনুযায়ী, লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে অন্তত ১২ গোল করার কীর্তি আছে মাত্র সাত খেলোয়াড়ের। সাম্প্রতিক সময়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লিগের প্রথম সাত ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন তিনি। সেই মৌসুমে ৩৫ ম্যাচে রোনালদোর গোল ছিল ৪৮টি।

তবে প্রথম সাত ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড রিয়াল ওভিয়েদোর এস্তেবান এচেভাররিয়ার। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচে ১৪ গোল করেছিলেন তিনি।

রোনালদোর তিন বছর পর বার্সেলোনার হয়ে লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে ১১ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার মেসির সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

সেভিয়ার বিপক্ষে রাফিনিয়ার প্রথম গোলটি আসে ডান পায়ে। আন্দ্রেস ক্রিশ্চিয়ানসেনের রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জালে বল পাঠান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লামিন ইয়ামালের বাড়ানো বলে মাথা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া।

এরপর ৬৯ মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো বল পেয়ে গোলরক্ষককে একা সামনে পান তিনি। বাম পায়ের আলতো চিপে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রাফিনিয়া।

একটি গোল ডান পায়ে, একটি মাথা দিয়ে এবং একটি বাম পায়ে। ফুটবলের ভাষায় এমন কীর্তিকে বলা হয় নিখুঁত হ্যাটট্রিক। সেভিয়ার বিপক্ষে সেই কীর্তিই গড়েছেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনায় ১৭ বছর খেলেও যা করতে পারেননি মেসি, সেটিই এবার করে দেখালেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

শুধু এই কীর্তিই নয়, চলতি মৌসুমে আরও নানা দিক দিয়ে মেসির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন রাফিনিয়া। কোচ হানসি ফ্লিক তাকে মাঝখানের আক্রমণভাগে খেলাচ্ছেন। সেই ভূমিকায় দারুণ সফল তিনি। লা লিগার সাত ম্যাচে ১২ গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন তিনবার।

গত মৌসুমটি চোটের কারণে ভালো কাটেনি রাফিনিয়ার। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। এ কারণে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা হয়নি তার।

নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার তাগিদ হয়তো কাজ করছে রাফিনিয়ার মধ্যে। আর মাঠে গোল ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই জবাবই দিচ্ছেন তিনি।