বিনোদন
ক্যাটরিনার ওজন নিয়ে ট্রোলিং, কড়া জবাব দিলেন সালমান খান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের শারীরিক গঠন, বয়স ও চেহারা নিয়ে ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। ‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক পর্বে অন্যকে হেয় করে অর্থ উপার্জন এবং তারকাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটাক্ষের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
শনিবারের ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে প্রতিযোগী আরিশফা খানকে ঘিরে একটি বিরোধের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় ইউটিউবার স্কাউটওপির একটি মন্তব্যের সমালোচনা করেন সালমান। তিনি বলেন, কাউকে নিচে নামিয়ে অর্থ উপার্জন করা এবং কারও চেহারা, ওজন, পরিবার, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করা আসলে ট্রোলারের পারিবারিক শিক্ষা ও মানসিকতার পরিচয় দেয়।
এরপর গর্ভধারণের পর নারীদের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন সালমান। তিনি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যটি সম্প্রতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে ঘিরে হওয়া ট্রোলিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে গণপতি উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ক্যাটরিনার চেহারা ও ওজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হয়। মা হওয়ার পর তার শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও কটাক্ষ করেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, কেউ গর্ভবতী হলে তাকে কেন ট্রোল করা হবে? গর্ভধারণের পর সবারই ওজন বাড়ে। সন্তান জন্মের পর ওজন বেড়েছে, আবার সিনেমায় ফিরলে তিনি ফিট হয়ে যাবেন। এই সময় একজন নারী পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের বয়স ও চেহারা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেন সালমান। তিনি বলেন, বয়স বেড়েছে, অবশ্যই ৬০ বছর হয়েছে। সব সময় ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমার সময়কার মতো থাকা সম্ভব নয়।
তারকাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চেহারা নিয়ে কেন এত আলোচনা হয়, সেই প্রশ্নও তোলেন সালমান। যারা নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, তারা কেন অন্যের চেহারা ও ওজন নিয়ে মন্তব্য করতে সময় ব্যয় করেন, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।
সালমান আরও বলেন, কাকে এবং কেন ট্রোল করা হচ্ছে, সেটিও ভেবে দেখা উচিত। অনলাইনে তারকাদের আক্রমণ করার জন্য কিছু প্রযোজক বা অভিনেতা মানুষকে অর্থ দিতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পর্বটিতে তারকাদের শরীর ও বয়স নিয়ে নিয়মিত মন্তব্যের বিষয়ে সালমানকে বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি নিজের টুপি ও টি-শার্ট খুলে মেকআপ শিল্পী রাজুকে ডাকেন। এরপর নিজের মেকআপ মুছে ফেলেন তিনি। চেহারার পরিবর্তন নিয়ে যারা নিয়মিত মন্তব্য করেন, তাদের উদ্দেশেই সালমান এমনটি করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।