রাজনীতি

অপ্রতিমের মতো পরিণতি যেন আপনার-আমার সন্তানের না হয়: রাশেদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

অপ্রতিমের মতো পরিণতি যেন আপনার-আমার সন্তানের না হয়: রাশেদ
ছবি: সংগৃহীত

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার বন্ধুমহল কেমন, এসব বিষয়ে বাবা-মাকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সন্তানের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও মেলামেশার বিষয়ে খোঁজখবর রাখা প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্ব। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিষয়টি আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, অপ্রতিম একটু সিনিয়র শ্রেণির বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত। সেই সূত্রে তুহিনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। ছোটবেলায় তারাও এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে চলাফেরা করলেও খারাপ ছেলেদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় তুহিনদের মতো কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও সিনেমার মতো ভিডিও প্রকাশ করে অল্পবয়সী তরুণদের আকৃষ্ট করে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে।

রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, মুঠোফোনের লোভ দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনা হয়েছিল। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানের সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের যোগাযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি হয়তো বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি।

অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাং নির্মূলের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তানের যেন অপ্রতিমের মতো পরিণতি না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর থাকায় বিভিন্ন ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে। তবে একই সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা, আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি গত ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণের যে চেষ্টা হয়েছে, সেটিও একটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খান।

তিনি আরও বলেন, ১৬ বছরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে বিরোধী দলগুলো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে তুলছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ বাসে আগুন দেওয়া ও ককটেল হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এক দফার কর্মসূচির হুমকি দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করছে।

রাশেদ খান বলেন, বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সামলে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। তার মতে, এটি সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার বিকল্প নেই।