সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্রোপচারের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিকে ভাঙচুরের পর বন্ধ ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্রোপচারের সময় বিএনপি নেতার মৃত্যু, ক্লিনিকে ভাঙচুরের পর বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ক্লিনিকটিতে দফায় দফায় ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিহত রবগুল মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে অপারেশন টেবিলেই রবগুল মোল্লার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক তাকে অপারেশন থিয়েটারে রেখেই সেখান থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা ক্লিনিকে দফায় দফায় ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, রোববার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

ঘটনার পর উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি থাকা সব রোগীকে অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্লিনিকটি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।