সারাবিশ্ব

ভুয়া শরণার্থী বানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা, নেপালের দুই সাবেক মন্ত্রীর কারাদণ্ড


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ভুয়া শরণার্থী বানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা, নেপালের দুই সাবেক মন্ত্রীর কারাদণ্ড
ছবিঃ সংগৃহীত

ভুয়া নথি তৈরি করে নেপালের নাগরিকদের ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক দুই মন্ত্রীসহ ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন নেপালের একটি আদালত।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত কাঠমান্ডু জেলা আদালতের রায় অনুযায়ী, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী টোপ বাহাদুর রায়ামাঝিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, জালিয়াতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাল কৃষ্ণ খাডকে সহযোগিতার দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে টোপ বাহাদুর রায়ামাঝি কারাগারে থাকলেও বাল কৃষ্ণ খাড জামিনে মুক্ত রয়েছেন। রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

রায়ামাঝির আইনজীবী ধর্ম রাজ রেগমি বলেন, তার মক্কেল শরণার্থী নীতিনির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখেননি। তাই তারা উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন খাডের আইনজীবী পঙ্কজ কর্ণও।

একই মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা, ভুটানি শরণার্থীদের সাবেক এক নেতাসহ আরও ১৪ জনকে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্তে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, ভুয়া ভুটানি শরণার্থী পরিচয়ে কোনো নেপালি নাগরিক শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত হতে পেরেছিলেন কি না। ২০২৩ সালে এ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন অভিযুক্ত দুই মন্ত্রী আর সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নেপালি বংশোদ্ভূত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ভুটানি রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগে ভুটান ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নেন। পরে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজারকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ শরণার্থীকে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে পূর্ব নেপালের শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনও কয়েক হাজার ভুটানি শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, তারা নিজ দেশ ভুটানে ফিরে যেতে চান।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই আন্দোলনের জেরে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেয়।

সূত্র: রয়টার্স