আইন আদালত

শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, ‘মার মার’: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের গণআন্দোলন দমনে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশনের সাক্ষী মাহমুদ হোসেন। ওই গোলাগুলিতে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন বলেও দাবি করেন তিনি।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একে দেওয়া সাক্ষ্যে এসব কথা বলেন মাহমুদ হোসেন। তিনি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি।

সাক্ষ্যে মাহমুদ হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় ফতুল্লা, সিদ্দিরগঞ্জ, জালকুড়ি লিংক রোড ও নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হন। এতে দলের অনেক নেতাকর্মী আহত ও নিহত হন। দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু গুলিবিদ্ধ হন। টিয়ারশেলের আঘাতে তিনিও আহত হন বলে জানান সাক্ষী।

১৯ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহমুদ হোসেন বলেন, চাষাঢ়া ও জালকুড়ি এলাকায় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে আদিল ও ইয়াছিনসহ কয়েকজন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ডিআইটি সড়কে রিয়া গোপ নামে এক শিশুকন্যা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, সেদিন একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শামীম ওসমানের অনুসারীরা দলের কর্মী ও তার মামাতো ভাই বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়।

পরে শহীদ মিনার মোড়ে বদিউজ্জামানকে লোহার রড, পাইপ ও গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয় বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন মাহমুদ হোসেন।

সাক্ষী বলেন, ‘শহীদ মিনারে গিয়ে দেখি শামীম ওসমান বলছে, মার মার। তার নির্দেশে কয়েকজন বদিউজ্জামানকে পিটাচ্ছিল। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

মামাতো ভাই বদিউজ্জামানের মৃত্যুর জন্য শামীম ওসমানসহ আসামিদের দায়ী করে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিচার দাবি করেন মাহমুদ হোসেন।

এরপর প্রসিকিউশনের আরেক সাক্ষী মোশারফ ব্যাপারী সাক্ষ্য দেন। ফতুল্লার বাসিন্দা মোশারফ ব্যাপারীর ছেলে রাকিব ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

সাক্ষ্যে মোশারফ ব্যাপারী বলেন, ‘শুনেছি শামীম ওসমানের ছেলে, ভাতিজা ও আওয়ামী লীগের লোকজন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

শামীম ওসমানসহ এ মামলায় আসামি রয়েছেন ১২ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।