সারাবিশ্ব
নেতানিয়াহু–মিলেইর সমর্থনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা ঘোষণা বলসোনারোর ছেলের
ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। শনিবার তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণায় সমর্থন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
বাবার লিবারেল পার্টির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফ্লাভিও বলেন, এটি কেবল একটি দলীয় সম্মেলন নয়, বরং তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা। তিনি এটিকে ভালো ও মন্দের মধ্যকার লড়াই হিসেবেও আখ্যা দেন।
তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বামপন্থী নেতা লুলার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন ফ্লাভিও। বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির কারণে তার প্রার্থিতা এখনও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
শনিবারের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ডানপন্থী নেতাদের সমর্থন মিললেও ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। মধ্য-ডানপন্থী দলগুলোও এখনও তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে।
এদিকে, ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তার এই সাজা হয়। তিনি অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় তার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
সমাবেশে হাভিয়ের মিলেই লুলার কড়া সমালোচনা করে বলেন, বলসোনারো ব্রাজিলকে সমাজতন্ত্র থেকে রক্ষা করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সমাজতন্ত্রের ‘মিথ্যা’ উন্মোচন করে যেতে চান তারা। অনুষ্ঠানের আগের দিনই তিনি ব্রাজিলে পৌঁছান এবং সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিওকে অভিনন্দন জানিয়ে তাকে ব্রাজিল ও দুই দেশের সম্পর্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেন।
আগামী ২ আগস্ট লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বলসোনারো শিবির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি অনেক ব্রাজিলিয়ানের কাছে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্লাভিও নিজেও নির্বাচনি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল অস্বীকার করার একটি কৌশল হিসেবেই এমন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে ব্রাজিল ভিসা দেয়নি। তারা নির্বাচনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন।