সারাবিশ্ব

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় নিহত অন্তত ৪৭


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় নিহত অন্তত ৪৭
ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিবীয় দেশ হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে কেন্সকফ এলাকায় সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের হাইতিবিষয়ক সমন্বিত কার্যালয় জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা কেন্সকফে রাতভর এ হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা হলেও তারা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হলেও পুলিশ তাদের রক্ষা করতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকার পুলিশপ্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।

হাইতির মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা শুরু হয়। তাদের হিসাবে, এ ঘটনায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি ও তথ্য যাচাইয়ের কারণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

কেন্সকফ এলাকায় গত বছর থেকে সশস্ত্র গ্যাংগুলো প্রায় এক ডজন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। শক্তিশালী গ্যাংগুলো দীর্ঘদিন ধরে হাইতির রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করছে।

দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গ্যাংগুলোর হামলায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু চুরির মতো ঘটনা ঘটছে।

হাইতি সরকার সর্বশেষ হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কেন্সকফকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হবে না এবং কোনো ধরনের দুর্বলতা বা বিলম্ব ছাড়াই সেখানে সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে টানা দুই মাস কেন্সকফে গ্যাংয়ের হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এ সময় প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলার সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম পাপের বাড়িও রয়েছে।

হামলার পর কেন্সকফ পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির জাতীয় পুলিশপ্রধান ভ্লাদিমির প্যারাজন বলেন, পুলিশ কখনো হাল ছেড়ে দেয়নি।

এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে হাইতিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গ্যাংগুলোর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও সহিংসতার কারণে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত এক দশকে দেশটির একাধিক সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত গ্যাং দমন বাহিনীকে হাইতির পুলিশকে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর এ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কেন্সকফের নিরাপত্তা জোরদারে এ বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৮০৪ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে হাইতি। দেশটি প্রথমে স্পেন এবং পরে ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটিতে বিশ্বের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার পরও গত দুই শতাব্দীতে দেশটি বারবার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, আগ্রাসন ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে দুভেলিয়ার পরিবারের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনেরও শিকার হয়েছে দেশটির মানুষ।