সারাবিশ্ব
পুরান দিল্লিতে তিনতলা ভবন ধস, প্রাণহানি বেড়ে ৩
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুরান দিল্লির হাউজ কাজি এলাকায় তিনতলা একটি ভবন ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৪৭ ঘণ্টা পর শনিবার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম পঙ্কজ শর্মা (৪০)। তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের খাগারিয়া জেলার বাসিন্দা হাজারি শর্মার ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরান দিল্লির চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে ‘গলি সিতারা’ এলাকায় ভবনটি ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা। এ ঘটনায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই তিনতলা ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (এমসিডি) সদস্যরা। এসব সংস্থার সমন্বয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা।
দিল্লি পুলিশের কেন্দ্রীয় জেলার ডেপুটি কমিশনার রোহিত রাজবীর সিং এর আগে জানিয়েছিলেন, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে ভবনটির নির্মাণকাজের বৈধতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমসিডির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ বর্গমিটার জমির ওপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। এমনকি ভবনটির কোনো অনুমোদিত নকশাও ছিল না বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসায় ভবন ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি ভবন নির্মাণে নিরাপত্তাবিধি ও অনুমোদনসংক্রান্ত নিয়ম মানার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।