সারাবিশ্ব
ইরানের কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এ হামলায় দ্বীপটির সুজা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এর পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করলে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কেশম দ্বীপের সুজা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর আগে দ্বীপটির আকাশে যুদ্ধবিমানের মতো উড়োজাহাজের শব্দও শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দ্বীপের সুজা এলাকায় আকাশ থেকে দুটি বস্তু আঘাত হানতে দেখেছেন। তবে বস্তু দুটি কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি বলে প্রচারিত খবরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে কাতারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কার্যালয়। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কাতারের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর নতুন করে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আকাশে আরেকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের খবর প্রকাশ করেছিল ইরানের গণমাধ্যম। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ড্রোনটি ছিল মার্কিন এমকিউ-১ মডেলের। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে কেশম দ্বীপের আকাশে দুটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি করল ইরান।
সব মিলিয়ে কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর, পরপর দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা-সবকিছু ঘিরে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের অঞ্চলের পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসা এখনো বাকি।