জাতীয়

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে সংঘটিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিএনপির বর্ণনা অনুযায়ী, আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে সেদিন সিপাহি ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনানিবাসে বন্দি থাকা তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দলটি স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক হিসেবে অভিহিত করে। দলটির দৃষ্টিতে, ৭ নভেম্বরের ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়। দলটি মনে করে, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঐতিহাসিক মহলের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়নও রয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব সময় অতীতের ইতিহাস চর্চায় ব্যস্ত থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল ও বিভিন্ন স্মরণমূলক আয়োজন। এ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা দিক।