সারাবিশ্ব

নেপালে আবারও উত্তেজনা, সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ এএম

নেপালে আবারও উত্তেজনা, সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস উত্তেজনা। গত সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে রক্তাক্ত ‘জেন জি’ আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলির সরকার পতন হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অনুসারীদের সঙ্গেই এবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল-এর সমর্থকরা।

এতে বারা জেলার সিমারা এলাকায় নতুন করে সহিংসতা দানা বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত সেপ্টেম্বরে ‘জেন জি’ তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৬ জন নিহত হয় এবং সে আন্দোলনের ফলেই ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অর্থনৈতিক স্থবিরতা, দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা।

বুধবার সিমারায় সিপিএন-ইউএমএল এবং ‘জেন জি’ আন্দোলনকারীরা পৃথক সমাবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রশাসন কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানায়, ঘটনার এক দিন পর সেখানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নেপালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবারের সহিংসতার পর এক বিবৃতিতে কার্কি বলেন, “সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমি স্বরাষ্ট্র প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযমের সঙ্গে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত, সহিংসতামুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

বুধবার কার্কি ১১০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা চাই দেশটি নতুন প্রজন্মের হাতে গড়ে উঠুক এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যাক।”

নেপালে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আবারও সামনে চলে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থিতিশীল প্রশাসন ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।