সারাবিশ্ব

গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার। এ রায় চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার।

বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সংক্রান্ত যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশনা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এই রায়ের মাধ্যমে আদালত আইনসভার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি আদেশে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সুরক্ষা।

তবে রাজ্য সরকার এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ বা প্রজননে অক্ষম গরু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

সরকারের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে হাইকোর্ট তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে এবং এতে বিদ্যমান আইনের সঙ্গে অসংগতি সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের আদেশকে কেন্দ্র করে। বিচারপতিরা নির্দেশ দেন, পশু জবাই শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় করা যাবে এবং ঈদুল আজহাসহ যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালত সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে গরু, বাছুর ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশু জবাই রোধে রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরে। পাশাপাশি আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, কোরবানি ঈদে গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অনুশীলন নয়।

এদিকে, তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, আদালতের এ নির্দেশনার ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং এটি রাজ্যের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।