সারাবিশ্ব
মমতা আর নিজেকে তৃণমূলের প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না: আদালত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত নিজেকে পরিচয় দিতে পারবেন না বলে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন আলিপুর আদালত। একই সঙ্গে তিনি দলের কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, দলীয় সিদ্ধান্ত প্রদান কিংবা সংগঠনের পক্ষে কোনো নির্দেশ জারি করতে পারবেন না বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী, কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এবং সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাসের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। জুঁই বিশ্বাস ইতোমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। দুর্নীতির মামলায় তার স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
নতুন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে। দলটির দাবি, রাজ্যের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। রোববার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাইলে তাদের দলের বিধায়কের সংখ্যা ৭৫ জনে উন্নীত করা সম্ভব। তবে সবাইকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের গঠিত তৃণমূলের কার্যনির্বাহী কমিটির কাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবেন না। পাশাপাশি তিনি কোনো নিয়োগ, নির্দেশনা বা দলীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপও করতে পারবেন না।
এ ছাড়া দলের আগের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, দলীয় অর্থ, নথিপত্র ও সম্পদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ থেকেও মমতাকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আলিপুর আদালতের নির্দেশনা মেনেই তারা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অন্যদিকে তৃণমূলের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, আদালতের আদেশ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করবেন না। বিষয়টি দলীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মামলার আবেদনে জুঁই বিশ্বাস অভিযোগ করেন, অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট বা পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে আদালত এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের বক্তব্য শোনেননি। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধতা-সংক্রান্ত বিষয়ও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।
আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন বিচারক।